কোনটি সাধু ভাষারীতির বৈশিষ্ট্য নয়?

Updated: 2 months ago
  • সাধু ভাষায় পদবিন্যাস রীতি সুনির্দিষ্ট
  • সাধু ভাষায় তৎসম শব্দের ব্যবহার বেশি
  • সাধু ভাষায় সংস্কৃত শব্দের ব্যবহার বেশি
  • সাধু ভাষা সব সময় ব্যকরণের নিয়ম মেনে চলে না
34
ব্যাখ্যাঃ

সাধু ভাষারীতির অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো এর ব্যাকরণগত সুনির্দিষ্টতা এবং কঠোর নিয়ম অনুসরণ। সাধু ভাষা সব সময় ব্যাকরণের নিয়ম মেনে চলে। চলিত ভাষার মতো এটি প্রয়োগভেদে শিথিলতা বা পরিবর্তনের সুযোগ রাখে না। তাই, সাধু ভাষা সব সময় ব্যকরণের নিয়ম মেনে চলে না— এই উক্তিটি সাধু ভাষারীতির বৈশিষ্ট্য নয়, বরং এটি চলিত ভাষার একটি বৈশিষ্ট্য।

সাধু ভাষার অন্যান্য বৈশিষ্ট্যসমূহ হলো:

        
  • সাধু ভাষায় পদবিন্যাস রীতি সুনির্দিষ্ট ও সুবিন্যস্ত। ক্রিয়াপদ ও সর্বনাম পদের পূর্ণাঙ্গ রূপ ব্যবহৃত হয়। যেমন: 'করিতেছি', 'তাহাদের'।
  •     
  • সাধু ভাষায় তৎসম (সংস্কৃত মূল শব্দ যা অবিকৃতভাবে বাংলায় ব্যবহৃত হয়) শব্দের ব্যবহার বেশি। এটি ভাষার গাম্ভীর্য ও আভিজাত্য বাড়ায়।
  •     
  • সাধু ভাষায় সংস্কৃত শব্দের ব্যবহার বেশি, যা তৎসম শব্দেরই একটি অংশ। এটি সাধু ভাষার গুরুগম্ভীর প্রকৃতির পরিচায়ক।
  •     
  • সাধু ভাষা সাধারণত লিখিত রূপেই সীমাবদ্ধ এবং গুরুগম্ভীর ও আভিজাত্যপূর্ণ প্রকাশভঙ্গির জন্য ব্যবহৃত হয়।
  •     
  • এটি পরিবর্তনশীল নয় এবং সব অঞ্চলে এর রূপ অভিন্ন।

অন্যদিকে, চলিত ভাষা পরিবর্তনশীল, কৃত্রিমতাবিহীন, সংক্ষিপ্ত রূপ ব্যবহার করে (যেমন: 'করছি', 'তাদের'), এবং এটি মুখের ভাষার কাছাকাছি হওয়ায় ব্যাকরণগত কিছু শিথিলতা গ্রহণ করতে পারে।

Satt AI
Satt AI
2 weeks ago

পূর্বে সাহিত্য রচনা ও লেখালেখির জন্য তৎসম শব্দবহুল, দীর্ঘ সর্বনাম ও ক্রিয়াপদ সম্পন্ন যে গুরুগম্ভীর ভাষারীতি ব্যবহৃত হতো, তাকেই সাধু ভাষা বলে। এই ভাষা অত্যন্ত গুরুগম্ভীর, দুরূহ এবং এতে দীর্ঘ পদ ব্যবহৃত হয় বলে এই ভাষা কথা বলার জন্য খুব একটা সুবিধাজনক না। তাই এই ভাষায় কথাও বলা হয় না। এই ভাষা কেবল লেখ্য রীতিতে ব্যবহারযোগ্য। তাও বহু আগেই লেখ্য রীতি হিসেবে চলিত রীতি সুপ্রতিষ্ঠিত হয়ে যাওয়ায় সাধু রীতি এখন লেখ্য ভাষা হিসেবেও ব্যবহৃত হয় না। কেবল সরকারি দলিল-দস্তাবেজ লেখা ও অন্যান্য কিছু দাপ্তরিক কাজে এখনো এই রীতি ব্যবহৃত হয়।

সাধু রীতির প্রধান বৈশিষ্ট্যসমূহ:
  • তৎসম শব্দের ব্যবহার: এতে সংস্কৃত বা তৎসম শব্দের বাহুল্য থাকে ।

  • দীর্ঘ পদ: সর্বনাম ও ক্রিয়াপদের রূপ দীর্ঘ হয় (যেমন: খাইতেছে, গিয়াছিল, উহাদের)।

  • ব্যাকরণ অনুসারী: সাধু ভাষা ব্যাকরণের নিয়ম অত্যন্ত কঠোরভাবে মেনে চলে।

  • গুরুগম্ভীর ও মার্জিত: এটি অত্যন্ত গম্ভীর ও কাব্যিক প্রকৃতির।

সাধু ও চলিত রীতির পার্থক্যের উদাহরণ:
  • সাধু: তাহা হইলে তুমি কোথায় যাইবে?

  • চলিত: তাহলে তুমি কোথায় যাবে?

  • সাধু: আমি অদ্যই আসিব।

  • চলিত: আমি আজই আসব।

ইতিহাস ও ব্যবহার:
ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের পণ্ডিতগণ বাংলা গদ্যের শুরুতে এই রীতি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। বর্তমানে লেখালেখিতে এর ব্যবহার কমে গেছে এবং চলিত রীতি বা প্রমিত রূপই (Standard Bengali) বেশি জনপ্রিয়।
সতর্কতা: সাধু ও চলিত ভাষার মিশ্রণকে 'গুরুচণ্ডালী দোষ' বলা হয়।

Related Question

View All
Updated: 6 months ago
  • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  • ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  • প্রমথ চৌধুরী
195
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র
মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews

Question Analytics

টি এক্সামে এসেছে

মোট উত্তরদাতা

জন

সঠিক
ভুল
উত্তর নেই